তারুণ্যের নেতৃত্ব কি দেড় বছরেই হোঁচট খেলো?

জুলাই যোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করা হচ্ছে—এমন দাবি করা হলেও সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ঘেরাটোপে প্রশ্নের মুখে এখন তারুণ্যের নেতৃত্ব। অথচ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূলেই ছিল তারুণ্যের বিপ্লব। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় সেই নেতৃত্বই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ‘জেন-জি’র অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গোটা বিষয়টি মূলত ধাপে ধাপে জুলাই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান জাতিকে দিয়েছে এক নতুন বাংলাদেশ। অসীম সাহস আর দৃঢ় প্রত্যয়ে আন্দোলনের ঝড় তুলে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল জুলাই বিপ্লবের লড়াকু যোদ্ধারা। অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশের মানচিত্রে নতুন করে বীরত্বগাথা লিখে দিয়েছিল তরুণেরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র দেড় বছরের মাথায় সেই তারুণ্যের নেতৃত্ব কি হোঁচট খেলো?
জুলাই আন্দোলনের নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের বিতর্কিত করা হচ্ছে। চরিত্র হরণের চেষ্টা ৫ আগস্টের পর থেকেই চলছে।’
তরুণ নেতাদের দাবি, সম্প্রতি শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী কিংবা তাহরিমা সুরভীকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশ কিংবা রাজনীতির বিদ্বেষমূলক মনোভাব জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিকদের ওপর স্পষ্টতই দৃশ্যমান।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং তাদের পুরোনো যে ভারতীয় স্ট্যাবলিশমেন্ট, তারা পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের চরিত্র হরণ করছে। তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক আক্রমণ চালাচ্ছে। সারাদেশে অব্যাহতভাবে এই প্রচেষ্টা চলছে।’
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি বা অ্যাক্টিভিজমের সময় থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি, প্রশাসনের ভেতর থেকে আমাদের বিষয়ে একটা নেতিবাচকতা আছে। এছাড়া আরও এক ধরনের গোষ্ঠী আছে যারা ৫ আগস্টের পর থেকে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে চাইছে যে—“আগেই ভালো ছিলাম”।’
সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা মূলধারার গণমাধ্যমে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, দুর্নীতি ও মব জাস্টিসের অভিযোগে অনেক জুলাই যোদ্ধা বিতর্কিত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ব্যক্তিবিশেষের এই বিচ্যুতিকে পুঁজি করেই গোটা জুলাই আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাহাবুল হক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন বা জুলাই চেতনা সমাজে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। যারা এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারেনি—তারা রাজনীতি, প্রশাসন কিংবা সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট যেকোনো পরিচয়েই থাকুক না কেন—সকলেই সম্মিলিতভাবে পুরো আন্দোলনকে একটি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
তবে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে এরই মধ্যে সরকার পৃথক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ করার উদ্যোগ নিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়াও প্রস্তুত করেছে, যা দ্রুতই উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
ভিওডি বাংলা/ এম







