• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: প্রতিমন্ত্রী টুকু সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন-সুশাসনে সবাইকে পাশে চাইলেন সারিয়াকান্দির নবাগত ইউএনও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন মির্জা ফখরুল লুলাকে ‘চোর’ বললেন মিলেই, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল ব্রাজিল হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ ধাপে সরকার

রাজশাহী তানোরে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প


প্রকাশ:  ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৩:৪২ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
রাজশাহীতে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প
রাজশাহীতে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প

মোঃ রমজান আলী রাজশাহী ব্যুরো

বাঁশ বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বাঁশ-বেতের সামগ্রী ছাড়া একটা সময় বাঙলা বর্ষবরণ উদযাপন হতো না। বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় বেত বনের ঐতিহ্য ছিল গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির রূপ। এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো বাঁশ ও বেতের পণ্য। অনেকে পরিবার আবার এই শিল্প পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। গ্রাম বাংলার অনেক দরিদ্র পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিলো এই শিল্প। কিন্তু বর্তমানে জনজীবন থেকে সেইসব হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এখন সেই শিল্পের জায়গায় দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য। তাই বলা যেতে পারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে শিল্পের ঠিকানা এখন প্রায় জাদুঘরে।

এক সময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্লিতে বাঁশের চটা দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাঙারি, টুকরি, চালনি, খলই, পলই, ঝুড়ি, খাচি, গুমাইসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হতো। এ সকল পণ্য তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজে সামিল হতো। হাট বাজারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করে ফেরিওয়ালারা এসব বেত ও বাঁশ শিল্প তৈরি পণ্য বিক্রিয় করতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শিল্পের মূল উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। যার কারণে এই শিল্পের কারিগররা তাদের পেশা ধরে রাখতে পারছে না, অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।এতে বিলুপ্ত হতে বসেছে গ্রামবাংলার বাঁশ ও বেত শিল্প। এ কারণে গ্রামের হাটবাজারে বাঁশ ও বেতের তৈরি শিল্প আগের মতো আর চোখে পড়ে না। এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

সঠিক সময়ে রোপণ, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনার অভাবে  উপজেলায় উজাড় হয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড়। ফলে এলাকা থেকে বাঁশ-বেত নির্ভর শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, একসময় গ্রামের হাটবাজারে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প বিক্রি হতো। যেমন কুলা, ডালা, টুপরি, কুড়ি চালুন, তালাই টেমাই, টোপা, ঝাঁটা হোঁচা, মই, মাছ ধরার জোলঙ্গা, পলো, দারকি, ধীল, চাঁই, বানা ও বিভিন্ন শৌখিন খেলনা সামগ্রী। এছাড়া, এলাকায় কাঁচা ঘর তৈরিতে বাঁশের খুঁটি, বেড়া, ঘরের দরজা প্রভৃতি উপকরণ ব্যবহৃত হতো।

বাঁশের তৈরি শিল্প বিক্রেতা আব্দুর আলিম (৫৫) বলেন, ‘আগে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র নিজেরা বাড়িতে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেছি, তখন লাভ হতো। কিন্তু এখন তেমন লাভ হয় না। রাত-দিন খেটে যা তৈরি করি হাটবাজারে সে তুলনায় বিক্রি নেই। সরকারিভাবে কোনো সাহায্যে সহযোগিতাও পাচ্ছি না। অনেক দুঃখ কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। অভাবের তাড়নায় এপেশার অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছেন। উপযুক্ত কাজ ও অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা অন্য পেশায় যেতে পারিনি।’

সবুজ দেওয়ান (৪৫) বলেন, ‘এ পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন অটো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমাদের গোত্রের দুই-তিনটি পরিবার ছাড়া সবাই পেশা পরিবর্তন করেছেন। একসময় পল্লী এলাকায় বাঁশ ও বেত ঝাড় থাকায় বাঁশের তৈরি শিল্পের প্রচুর ব্যবহার ছিল। কিন্তু আগের মতো এখন বাঁশঝাড় আর বেত চোখে পড়ে না। দুষ্প্রাপ্যতার কারণে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি কুটির শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি নিঃস্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী পরিবারগুলো।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
রাজাপুরে ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদকসেবী আটক
ছবি: সংগৃহীত
চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, তাৎক্ষণিক অভিযানে গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত
এনসিপির সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অভিযোগ