• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় আদালতে চার আসামির দায় স্বীকার হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: প্রতিমন্ত্রী টুকু সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন-সুশাসনে সবাইকে পাশে চাইলেন সারিয়াকান্দির নবাগত ইউএনও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন মির্জা ফখরুল লুলাকে ‘চোর’ বললেন মিলেই, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল ব্রাজিল হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

রাজশাহী পবার বজরাপুরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় দুর্বিষহ জীবন

  রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ:  ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৫:০৬ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বজরাপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনটি জোরপূর্বকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় অন্তত ৩০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে ঘরের আসবাব, শুকোতে পারছে না পোশাক, শিশুরা যাচ্ছে না স্কুলে, অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে সাপসহ পোকা মাকড়ের উপদ্রপ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি যেখান দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতো, সেই ড্রেনটি গ্রামেরই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি-আব্দুস সালাম, আক্কাস ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বন্ধ করে দিয়েছেন। ড্রেনটির মুখে মাটি, বস্তা ও গাছের গুড়ি ফেলে পানি চলাচলের পথ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সেখানে জমি নেই। গ্রামের বাসিন্দাদের বিপাকে ও বিপদে ফেলতেই পানি নিস্কাশন পথ বন্ধ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান।

গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দা জামরুল মোল্লা বলেন, “এই এলাকায় একটা ড্রেনই ছিল যেটা দিয়ে আমাদের গ্রাম থেকে পানি বের হতো। সেটা বন্ধ করে দেওয়ার পর ঘরে ঘরে পানি ঢুকে গেছে। আমরা হাঁটু পানি ডিঙিয়ে চলাচল করি। এই অবস্থায় স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বাইরে পাঠানো যায় না। পুরনো মানুষরা অসুস্থ হলেও ডাক্তার আনতে পারি না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন ঘর ঝাড়ু দেই, পানি ওঠে। কাপড় শুকাতে পারি না। রান্নাঘরে চুলা জ্বলে না। দিনের পর দিন পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই পায়ে ঘা করে ফেলেছে।” স্থানীয় মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলে, “স্কুলে গেলে পায়ে পানি ওঠে। বই-খাতা সব ভিজে যায়। অনেকদিন স্কুলেও যাওয়া হয়নি।”

বাড়ির গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, “ঘরের ভেতরে পানি। রান্না করি কিভাবে? কাপড় কাচলেও শুকাতে পারি না। মশা, পোকামাকড়, সাপ—সবই এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী।” গ্রামের বয়স্ক নারী পারুল খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “পানি গেলে একটু ঘুমাই, আবার বৃষ্টি হলে ভেসে যাই। বাচ্চারা ভয়ে চিৎকার করে। বাড়িতে গরু আছে, সেগুলোও ভিজে ঠাণ্ডা লেগে যাচ্ছে।”

একাধিক স্থানীয় যুবক বলেন, “আমরা ছোটখাটো কাজ করি। কাজে যেতে পারি না। বাইরে থেকে কেউ এলাকায় ঢুকতে চায় না। মনে হয়, আমরা পানির দেশে আটকে আছি।”বজরাপুর গ্রামের ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথেও যোগাযোগ করেছেন।


ভিওডি বাংলা/ এমএইচ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
রাজাপুরে ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদকসেবী আটক
ছবি: সংগৃহীত
চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, তাৎক্ষণিক অভিযানে গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত
এনসিপির সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অভিযোগ