যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় একটি মাদ্রাসাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল এবং তাঁর মেয়ে অনন্যা প্রায় সাত ঘণ্টা নিজ বাসভবনে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সন্ধ্যায় তাঁদের নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমপির বাসভবনের সামনে অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সোমবার পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষক ও কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে নতুন করে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে এমপির মেয়ে অনন্যার সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রেক্সনা নামে এক নারী অভিভাবক আহত হন। একই সময়ে নাসির উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা এমপির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এমপি ও তাঁর মেয়ে বাসভবনের ভেতরেই অবস্থান নেন।
সকাল প্রায় ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ পরিস্থিতির অবসানে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের মধ্যস্থতায় বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে এমপি ও তাঁর মেয়েকে নিরাপদে বাসভবন থেকে বের করে আনা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে পরে যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস বলেন, শুরুতে প্রশাসনের কিছু গাফিলতি থাকলেও পরে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এজন্য তারা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, "ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।"
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য